Last Update

Entertainment

Famous Posts

Image Post

Business

Saturday, December 27, 2014

যে কারণে বিএনপির পিছুটান

গাজীপুরের জনসভাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনীতি। গত কয়েক দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গাজীপুর। ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে কী হচ্ছে-সেই কৌতূহল ছিল সবার। অবশেষে শুক্রবার প্রশাসন গাজীপুরে ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্রলীগের বাধার মুখে যেকোনো মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও পরে তা থেকে সরে আসে বিএনপি। ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদে শনিবার গাজীপুরে হরতালের ডাক দেয় ২০ দলীয় জোট। তবে এই কর্মসূচিকে বিএনপির পিছুটান হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কৌশলগত কারণে সাময়িক এই পিছুটান দিয়েছেন। কারণ বিএনপি ও ২০ দলের কাছে এ মুহূর্তে অগ্রাধিকার পাচ্ছে ৩ ও ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি। ওই কর্মসূচি ঘিরে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থায় উটকো কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাচ্ছে না দলটি। শুক্রবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার গুলশানের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করে কর্মকৌশল ঠিক করেন। ১৪৪ ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া গাজীপুরে যাওয়ার কর্মসূচির কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ জানান, সরকারের পাতানো ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না। সতর্কভাবে লক্ষ্যের দিকে আগানো হচ্ছে। তাই এখনই কঠোর কর্মসূচিতে যাচ্ছে না বিএনপি। সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ গাজীপুরে ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠে ২০-দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু অবৈধ সরকার এই জনসভা বানচাল করতে ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে জনসভাস্থল দখল করে নেয়। দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন গোটা জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৪৪ ধারা জারির নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার অন্যায়ভাবে সাংবিধানিক অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করেছে। এভাবে অবৈধ সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে জুলুম-নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে দমন করতে চাচ্ছে।

‘যন্ত্রপাতির অভাব থাকলেও সরকারের আন্তরিকতার অভাব ছিল না’

রাজধানীর শাহজাহানপুরে প্রায় ২৫০ ফুট গভীর পাইপে আটকে পড়া শিশু জিহাদকে উদ্ধারের ঘটনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব থাকলেও সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না। তবে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করা যায় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনই নিতে হবে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের আলোচকরা এসব কথা বলেন। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিপ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা প্রধান ড. ফাহমিদা খাতুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এসএম শামীম রেজা। সংলাপ পর্বে শিশু জিহাদকে উদ্ধার করতে রাষ্ট্র পুরো ব্যর্থ হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, “এ ধরনের ঘটনায় রাষ্টের তো অবশ্যই দায়বদ্ধতা রয়েছে। রাষ্ট্র কেন ব্যর্থ হলো সেটা বড় প্রশ্ন।” তবে এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব থাকলেও সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না বলেও মনে করে তিনি। আ.স.ম ফিরোজ বলেন, “আসলে সরকারের আন্তরিকতার প্রমাণ রানা প্লাজা। আর জিহাদের ঘটনায়, যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত লোক ছিল তাদের লাইসেন্স বাতিল করে নয়, কঠোর শাস্তি পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।” ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করা যায় তার জন্য অবিলম্বেপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। এসএম শামীম রেজা বলেন, “পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র নয়, ব্যর্থতা দায়িত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর। তাদের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ঘাটতি চোখে পড়েছে।” ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “এর জন্য দায়ী দায়িত্বপূর্ণ লোকগুলোর অবহেলা এবং তাদের শাস্তি না পাওয়া। আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের জীবনের মূল্য খুব কম। তাদের জীবনের ন্যুনতম নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়না।” বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

ঢাবিতে ফলিত পরিসংখ্যান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

ফলিত পরিসংখ্যান: একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফলিত পরিসংখ্যান বিষয়ক ৩-দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২৭ ডিসেম্বর শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই সম্মেলন উদ্বোধন করেন। পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ শোয়ায়েব-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন।  সম্মেলন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম সেকান্দার হায়াত খান স্বাগত বক্তব্য দেন।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের জন্য পরিসংখ্যানবিদদের প্রতি আহ্বান জানান। এই সম্মেলন পরিসংখ্যানবিদদের একটি কমন প্ল্যাটফর্ম তৈরী ও গবেষণার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ‘রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখার জন্য শিক্ষক ও গবেষকদের প্রতি  আহ্বান জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্তের অভাবে দেশের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অসুবিধার সন্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসনে আলোকবর্তিকা হিসাবে এগিয়ে আসার জন্য তিনি পরিসংখ্যাণের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানান।  তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্নপূরণ এবং মৌলবাদ, অসভ্যতা, অপুষ্টি, নিরক্ষরতা, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। ফলিত পরিসংখ্যানকে তিনি সমকালীন উন্নয়ন সমস্যা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিরুপনের নির্ভুল মাপকাঠি হিসাবে বর্ণনা করে বলেন, বিশ্বের পরিসংখ্যান পদ্ধতি ও কৌশলসমূহ প্রতিদিনই উন্নত হচ্ছে। এসব নতুন নতুন কৌশল ও পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আধুনিক  ডাটাবেজ তৈরী এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদেরকেও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।  উল্লেখ্য, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের দেড় শতাধিক প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।
 
Back To Top